রাস্তার পাশে থাকা মোটরসাইকেলের ভিতরে মাথা ঢুকে গেছিলো অবলা এই ছাগলটির! কয়েক জন যুবক এসে উদ্ধার করেছে ছাগলটিকে। যুবকদের প্রসংশায় ভাসাচ্ছেন নেটিজনরা।

নিজস্ব প্রতিবেদন:অবুঝ প্রাণীরা যখন বিপদে পড়ে তখন মানুষের কাছে সাহায্য চাই।মানুষের অসাবধানতায় প্রাণ হারাচ্ছে অনেক পশুপাখি।পশুপাখি এটি অবুঝ প্রাণী। এগুলো মানুষের মত সবকিছু বুঝেনা।তাই এগুলো যেখানে সেখানে দুর্ঘটনায় পরে মারা যায়। শখ করে প্রাণী পোষাটা যেন একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহুরের বদ্ধ বাড়িতেও তাই শখের পোষ্য হেসেখেলে বড় হচ্ছেন পরিবারের সদস্যের মতো।গ্রাম বা মফস্বলের খোলামেলা পরিবেশে পশুপাখি পালন যতটা সহজ,

আধুনিক ধারার ফ্ল্যাট বাড়িতে সেটা ততটাই কঠিন। আবদ্ধ জায়গায় প্রাণীদের পালতে হলে চাই বাড়তি যত্ন, চাই বিশেষ খেয়াল।সময়মতো খাবার দেওয়া, প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, মলমূত্র পরিষ্কার করে দেওয়া—এ যেন সন্তান পালনের মতো গুরুদায়িত্ব। ছোট প্রাণী (যেমন: বিড়াল) পালতে হলে বাসায় নেট লাগিয়ে নিতে হবে, যাতে জানালা বা বারান্দা (এমনকি বাথরুমের জানালা) দিয়ে পড়ে না যায়।

সম্প্রতি অভিনেত্রী পূজা চেরির অরিও (বিড়াল) কিন্তু চারতলা থেকে পড়েই মারা গেছে। খরগোশ পালতে হলেও নেট লাগিয়ে নিতে হবে। আবদ্ধ জায়গায় সঙ্গীবিহীন প্রাণী পালতে হলে (কিংবা জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে হলে) প্রাণীটিকে অস্ত্রোপচার করিয়ে নেওয়া দরকার হয়। অস্ত্রোপচার–পরবর্তী যত্নআত্তিও আলাদা। তা ছাড়া সমাজ, আত্মীয়স্বজন, এমনকি পরিবারের সব সদস্যও একই মানসিকতার হন না।

পোষা প্রাণী নিয়ে প্রতিবেশী কিংবা বাড়িওয়ালার সঙ্গে মনোমালিন্য হতেই পারে, পরিবারের ভেতরেও সৃষ্টি হতে পারে মান অভিমান।প্রাণী পালন করতে হলে নেতিবাচক বিষয়গুলো খুবই যত্নের সঙ্গে, মাথা ঠান্ডা রেখে মোকাবিলা করতে হয়।কোনো প্রাণীকে পালতে চাইলে নিকটস্থ প্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্রে কথা বলে প্রাণী চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নেওয়া ভালো। মাছ, পাখি, কচ্ছপ, কুকুর, বিড়াল—প্রতিটি প্রাণীর যত্নের নিয়ম ভিন্ন।

বিড়াল, কুকুর ও খরগোশের যত্নআত্তি প্রসঙ্গে নিজের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে বললেন প লাইফ কেয়ারের (মিরপুর শাখা) প্রাণী চিকিৎসা কর্মকর্তা ফাতিহা ইমনূর।বিড়াল ও কুকুর মূলত আমিষজাতীয় খাবার খায়। অন্য কিছু না দিলেও চলে। মাছ, মাংস এবং খানিকটা ডিম দিতে পারেন। সামান্য সবজি সেদ্ধ করে (মিষ্টিকুমড়া, আলু, গাজর, পেঁপে) এগুলোর সঙ্গে মিশিয়েও দিতে পারেন।

দিতে পারেন সামান্য ভাতও। কিছু বিদেশি কুকুরকে বাড়তি ক্যালসিয়াম দিতে হয়। খরগোশকে পালংশাক, ধনেপাতা, লেটুসপাতা, টমেটো, শসা, গাজর, কাঁচা ঘাস, শুকনা খড় দিতে পারেন।বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর বিভিন্ন খাবার কিনতেও পাওয়া যায়। রাজধানীতে অনেকগুলো এলাকায় পেট শপ গড়ে উঠেছে। সেখানে গেলেও খাবার কিনতে পাবেন।প্রাণীর পানির পাত্রের পানি বদলে দিন নিয়মিত।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঢেলে রাখা পানি দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়, পানিতে ধুলা–ময়লাও পড়তে পারে যেকোনো সময়। খাবার ও পানি রাখার জন্য ভালো মানের পাত্র বেছে নিন। ময়লা পড়লে পানি বদলে দিন। পোষ্য খাবে ভেবে অপরিচ্ছন্নভাবে খাবার দিলে সে অসুস্থ হয়ে পড়বে।ছোটবেলা থেকে মায়ের দুধ ছাড়া অন্য দুধে অভ্যস্ত না হয়ে থাকলে প্রাণীদের বাইরের দুধ দেবেন না।

এতে পেটের পীড়া হতে পারে। চকলেট, চা-কফি, পেঁয়াজ বিড়াল-কুকুরের জন্য ক্ষতিকর। বিড়াল-কুকুরের খাবারে লবণ দিলে সেটিও হবে খুব সামান্য। মসলা ছাড়াই রান্না করুন বিড়াল-কুকুরের খাবার। খরগোশকে কলমি শাক এবং ভাত দেবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *