কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই কাদা মাটি দিয়ে খুব সহজে তৈরি করুন এই চুলা, বন্যা বা বৃষ্টির দিনে ভীষণ কাজে লাগবে, রইল স্টেপ বাই স্টেপ পদ্ধতি !

নিজস্ব প্রতিবেদন:আমরা যারা বেড়ে উঠেছি গ্রামীণ পরিবেশে, শৈশব-কৈশোরের পুরোটা আর যৌবনের কিছু সময় যাদের কেটেছে গ্রামে, যারা গ্রামের বড় বড় অনুষ্ঠান দেখেছি এবং খেয়েছি, তারা জানি, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া গ্রামে রান্নাটা এখনো হয় মাটির চুলা বা উনুনে।

তবে এটা ঠিক যে পিতল, ইস্পাত (স্টেইনলেস স্টিল), অ্যালুমিনিয়াম, লোহা এবং প্লাস্টিকের তৈজসপত্রের ব্যাপক প্রসারের কারণে মাটির হাঁড়ি ও থালাবাসন উনিশ-বিশ শতক থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোয়ারেন্টিনে চলে গেছে। তবে হ্যাঁ, এই একুশ শতকের উত্তরাধুনিক জীবনযাপনের অংশ হিসেবে, হঠাৎ হঠাৎ মনের ভেতর চাগিয়ে ওঠা শিকড়ের টানে কখনো কখনো কোয়ারেন্টিন ভেঙে মাটির হাঁড়ি-

পাতিল ও থালাবাসন যে আমাদের খাবার টেবিলের শোভা বাড়ায় না, তা নয়। কিন্তু গ্রাম বা নগর কোথাও তা আর আমাদের মূল স্রোতে নেই। শহরে সুযোগ নেই বলে মাটির চুলা তৈরির উপায় নেই।তার ওপর আছে পরিবেশের চাপ। কারণ, মাটির চুলায় রান্নার প্রধান জ্বালানি উদ্ভিজ্জ (খড়ি বা লাকড়ি নামেই পরিচিত)।আমাদের রান্নাবান্নার মূল ভিত্তি হলো মাটির চুলা এবং মাটির হাঁড়ি-পাতিল, থালাবাসন।

রান্না ও খাবারের থালাবাসন প্রায় সবকিছু তৈরি হতো মাটি দিয়ে। প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন তা–ই বলে। চুলার আবিষ্কার মানবজাতির গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলোর অন্যতম। প্রাচীন মানুষের কাঠ ও খড়কুটো জ্বালিয়ে তাতে খাবার পুড়িয়ে খাওয়ার যে ঐতিহাসিক গল্প আমরা জানি, তার থেকে এক ধাপ এগিয়ে যায় মানুষ চুলার আবিষ্কারের পর।

প্রথম চুলার আবিষ্কারের পর শত শত বছরের পরিশীলন মানুষকে আজকের চুলা বানাতে সহায়তা করেছে।চুলা, আগুন প্রতিরোধী উপাদান দিয়ে ঘিরে তৈরি জিনিস, যা দিয়ে রান্না করা বা কোনো কিছু পোড়ানো হয়।মাটির তৈরি চুলার কথা মনে করলেই, মনে পড়ে যায় দাদি-নানি ও মায়ের হাতের রান্নার কথা। তাদের সেই রান্নার স্বাদ, যেন জিভে পানি এনে দেয়।

বর্তমানে কমে আসছে এই মাটির চুলার ব্যবহার। শহরাঞ্চলে এ চুলার দেখা মেলে না বলেলেই চলে। তবে গ্রামাঞ্চলে এখনও বেশিরভাগ বাসায় রান্নার কাজে মাটির চুলা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আবার অনেকে বাণিজ্যিকভাবেও মাটির চুলা তৈরি করে থাকেন।ইদানীং প্রায়ই শহরাঞ্চলে বিশেষ করে রাজধানীতে গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। কখনো কখনো গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করে।

এমন পরিস্থিতিতে মাটির চুলা থাকলে অন্তত না খেয়ে থাকার জোগাড় হবে না।তাই বাসাবাড়িতে একটি মাটির চুলা থাকলে সংকটের সময়টা হতে পারে স্বস্তিদায়ক। খুব সহজেই আপনি নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন মাটির চুলা। মাটির চুলা তৈরি পদ্ধতি:মাটির চুলা অনেক ধরনের হয়ে থাকে।তবে সাধারণ চুলার চেয়ে উন্নত মাটির চুলায় অল্প জ্বালানিতে রান্না হয় এবং ধোঁয়াও কম হয়।

প্রতিটি মাটির চুলা তৈরিতে ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।সাধারণ চুলা:প্রথমে এঁটেল মাটি, তুষ ও পানি দিয়ে মণ্ড তৈরি করতে হবে।থালা বা গামলার ওপর মাটির মণ্ড রেখে হাত দিয়ে ধীরে ধীরে চুলার আকৃতি ‍দিন। তারপরে জায়গা মতো মাঝ বরাবর গোল করে কেটে চুলার মুখ তৈরি করুন। মাটির ভেজা ভাব শুকিয়ে গেলে আপনার ইচ্ছে মতো রান্না করুন।

উন্নত চুলা:আগের মতোই এঁটেল মাটি, তুষ ও পানি দিয়ে মণ্ড তৈরি করুন। চুলার আকার ঠিক করে ২ ভাগে ভাগ করে নিন। কাঁদা দিয়ে একটি অংশে ভিটি তৈরি করুন। ভিটির মাঝে ফাঁকা রাখুন। এটি হচ্ছে মুখ্য চুলা। এবার মুখ্য চুলার পাশে গৌণ চুলা তৈরি করুন, এটির গর্ত প্রথমটির চেয়ে ছোট হবে। এর ওপর মাটির প্রলেপ দিয়ে চুলার আকৃতি দিন। দুই গর্তের মাঝে একটি নালা দিন,

যেন মুখ্য চুলা থেকে গৌণ চুলায় আগুন যেতে পারে। গৌণ চুলার ভিটির ওপর সিমেন্টের পাইপ বসিয়ে দিন। যা রান্না ঘরের চালা বা ছাদ দিয়ে ধোঁয়া বাইরে বের করে দেবে। এই পাইপের মুখে একটি ছিদ্রযুক্ত টুপি লাগিয়ে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *